রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ এড়াতে গিয়ে বিপরীতমুখী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এক সিএনজি অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে সিএনজি অটোরিকশায় গাছ পড়ে চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে যা সত্য নয়।
আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালের দিকে উপজেলার কাটাখালী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে অটোরিকশার আরও তিন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত চালকের নাম মো. সেলিম (৪০)। তিনি উপজেলার চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম ছিপাতল এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে। তার আদি বাড়ি চন্দ্রঘোনা সূফিগোট্টা এলাকায় হলেও তিনি পরিবার নিয়ে বনগ্রাম এলাকায় থাকতেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকালে লিচুবাগান এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে গ্যাস রিফুয়েলিংয়ের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিলেন সেলিম। পথিমধ্যে কাটাখালী এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে ঝুলে থাকা কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বড় গাছ হালকা বাতাসে দুলতে থাকে। গাছটি মাথার ওপর ভেঙে পড়ছে—এমন আশঙ্কায় সেলিম দ্রুত পাশ কাটাতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িটি উল্টে গিয়ে চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্য যাত্রীদের চিকিৎসা সেবা দেন। তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) নুরুল আফসার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে গেলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
নিহত সেলিমের শ্যালক মো. আরফাত জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বনগ্রাম এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে সেলিমের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। সেলিমের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল /জেএইচ






