মৃত বোনের টাকা তুলতে কংকাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশায় এক ব্যক্তি বোনের মৃত্যুর প্রমাণ দিতে তার কংকাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির হয়েছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে দেশটিতে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ব্যাংক থেকে বোনের সঞ্চিত টাকা তুলতে না পেরে বাধ্য হয়ে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ওড়িশার কেওনঝর জেলায় সোমবারের এ ঘটনা। জিতু মুন্ডা নামের ওই ব্যক্তি জানান, বোনের মৃত্যুর পর কয়েকবার ব্যাংকে গিয়ে অর্থ তুলতে চাইলেও যথাযথ প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বোনের কবর খুঁড়ে কংকাল বের করে ব্যাংকে নিয়ে আসেন।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কখনো মৃত ব্যক্তির শারীরিক উপস্থিতি চায়নি; কেবল আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই চাওয়া হয়েছিল। ব্যাংকের ভাষ্য, পুরো ঘটনাটি মূলত প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে ঘটেছে। পরে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর ওই অর্থ বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মুন্ডা নিজেই বোনের দেহাবশেষ উত্তোলন করে ব্যাংকে নিয়ে আসেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বস্তায় মোড়ানো কংকাল তিনি ব্যাংকের সামনে এনে রাখছেন। ভিডিওটি কে ধারণ করেছে তা স্পষ্ট নয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, গ্রামীণ এলাকার মানুষদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

ওডিশার রাজস্ব বিষয়ক মন্ত্রী সুরেশ পুজারি জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেওনঝর জেলা প্রশাসনও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা তাদের অগ্রাধিকার।

বিবিসি হিন্দিকে মুন্ডা বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে তার ৫৬ বছর বয়সী বোন কালারা মারা যান। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে নিজের গবাদিপশু বিক্রি করে প্রায় ১৯ হাজার ৩০০ রুপি ব্যাংকে জমা করেছিলেন।

মুন্ডার অভিযোগ, বোনের মৃত্যুর পর একাধিকবার ব্যাংকে গেলেও তিনি টাকা তুলতে পারেননি। ‘ব্যাংক ম্যানেজার বারবার প্রমাণ চাইছিলেন, কিন্তু আমার কথা শুনছিলেন না। হতাশ হয়ে আমি কংকাল নিয়ে যাই, যাতে বোঝাতে পারি তিনি মারা গেছেন’, বলেন তিনি।

ভারতে কোনো ব্যাংক হিসাবধারী মৃত্যুর আগে মনোনীত উত্তরাধিকারী নির্ধারণ না করে গেলে তার অর্থ তুলতে পরিবারকে মৃত্যু সনদ ও বৈধ উত্তরাধিকার প্রমাণসহ বিভিন্ন নথি জমা দিতে হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় এসব নথি সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনাকারী ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক জানায়, কর্মীরা মৃত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে হাজির করতে বলেছিল এমন দাবি সঠিক নয়। তাদের মতে, মুন্ডাকে প্রক্রিয়া জানানো হলেও তিনি তা অনুসরণ করেননি। ব্যাংক আরো দাবি করেছে, প্রথমবার তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং পরে কংকাল নিয়ে ফিরে আসেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতি।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top