চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগে আটক এক যুবককে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপকে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরহান সাদিক এ রায় প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাদিস রহমান ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
এর আগে সোমবার বিকালে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জের একটি বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাচারের প্রস্তুতির সময় একটি বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর আটক ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জের বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, মুখপোড়া হনুমান বাংলাদেশের অত্যন্ত বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া মুখপোড়া হনুমান ও কচ্ছপগুলোকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে ডুলাহাজার সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূরজাহান বেগম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোথাও বন্যপ্রাণী শিকার, আটক বা পাচারের ঘটনা নজরে এলে দ্রুত বন বিভাগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। বন্যপ্রাণী পাচার রোধে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





