জগলুল হুদা: রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার পশ্চিম সৈয়দবাড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ের তণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একটি অসহায় পরিবারের শেষ সম্বল। ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি বিশাল গাছ বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্যারালাইজড বৃদ্ধ আবদুল হামিদ (৫৮) ও তার পরিবার। কয়েকদিন পার হলেও ঘর থেকে গাছটি অপসারণ না করায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা চালের নিচেই দিনাতিপাত করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ের রাতে হঠাৎ পাশের জমির একটি বড় গাছ আবদুল হামিদের কাঁচা ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের চালের বড় একটি অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেই মুহূর্তে ঘরে শুয়ে থাকা অসুস্থ হামিদ আতঙ্কিত হয়ে নড়াচড়া করতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান। ঘরটি বর্তমানে এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে, যেকোনো মুহূর্তে তা ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবদুল হামিদ একসময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন। উপার্জক্ষম মানুষটি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় পরিবারটি এমনিতেই চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ তাদের যেন অকূল পাথারে ভাসিয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে মাথার ওপর গাছ ঝুলে থাকায় এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। ঝড়ে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দারিদ্র্যের কারণে সেটি সংস্কার বা গাছটি অপসারণের সামর্থ্য নেই তাদের। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গাছটি প্রতিবেশীর মালিকানাধীন হলেও সেটি সরানোর বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পশ্চিম সৈয়দবাড়ির এই জীর্ণ কুটিরে এখন শুধু কান্নার রোল। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা এই পরিবারটির জন্য এখন জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আবাসন প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষায় এবং অসুস্থ হামিদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





