চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের সব পরিকল্পিত কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, পতেঙ্গা, লালদিয়া এবং বে-টার্মিনালের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।
আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্ব জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর।
সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। ফলে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কনটেইনারের কাস্টমস পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণেই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেশি।
আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুনে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালুর পর বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। আগে গভীর সমুদ্রে জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে সে পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে একটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গড়ে প্রায় ২ দশমিক এক দিন সময় লাগে। পরিকল্পিত সব টার্মিনাল চালু হলে ২০২৯ সালের মধ্যে এ সময় কমে অর্ধদিনে নেমে আসবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ইতোমধ্যে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। বে-টার্মিনাল-২ বাস্তবায়নে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে বে-টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু করতে পারলে ২০২৯ সালের মধ্যে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। তখন সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দ্রুত ও মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বে-টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হবে। এটি কার্যকর হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেল প্রবেশের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতা ও নাব্যতার সংকট দূর হবে। এর ফলে বন্দরের সামগ্রিক জট পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





