চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বাবাকে চিরবিদায় জানিয়ে শোক কাটানোরও সুযোগ পাননি ১৮ বছর বয়সী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন দাড়িয়া। বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতেই কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়েছে তাকে। সারারাত এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন শেষে পরদিন সকালে অংশ নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষায়। জীবনের এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া ইকনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। দ্রুত তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জোহরের নামাজের পর বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ জামে মসজিদে জানাজা শেষে বিকেলে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
বাবার দাফনের পরও থেমে থাকার সুযোগ হয়নি ইকনের। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে রাতেই তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে ফিরে যান। রাতভর ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে বই হাতে নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিও চালিয়ে যান।
পরদিন বুধবার সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন। ইকন বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাতের শিফটে পার্টটাইম চাকরি করে আসছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইকনের বড় ভাই ইমন একসময় বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই পরিবারের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন ইকন।
যে বয়সে একজন শিক্ষার্থীর প্রধান চিন্তা থাকে পরীক্ষার প্রস্তুতি, সেই বয়সেই ইকনকে একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রিয় বাবাকে হারানোর শোক, পরিবারের দায়িত্ব এবং নিজের শিক্ষাজীবনের চ্যালেঞ্জ।
প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও দায়িত্ববোধ ও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলা ইকনের গল্প অনেকের কাছে সাহস, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন সিপ্লাস টিভির ভিডিও লিংকে………………………
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





