চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: রান্নার গ্যাসের খরচ সামলাতে গত মাসেও বাড়তি ২৫২ টাকা গুনতে হয়েছে ভোক্তাদের। অক্টোবরে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। বাস্তবে কিনতে হয়েছে ২ হাজার টাকারও বেশি দামে। নভেম্বর মাসে সেই সিলিন্ডার কিনতে খরচ করতে হবে আরও ২২৩ টাকা বেশি।
অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়াল ২ হাজার ৬০ টাকা। এতে প্রতি কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম হয়েছে ১৭১.৬৮ টাকা।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন এই দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা কার্যকর হয়েছে আজ রাত ৮টা থেকে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে বিইআরসি। যদিও সাধারণ মানুষের ধারণা, সিন্ডিকেটকে খুশি করতেই সরকার এলপিজির দাম বাড়িয়েছে!
যদিও বাজারে বিইআরসি ঘোষিত দরে গত মাস থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না। কোথাও ২ হাজার টাকা, কোথাও ২ হাজার ২০০ আবার গ্রামীন জনপদে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছেন গ্রাহকরা।
ফলে দাম বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ জনগণের দাবি- সিলিন্ডারের যে মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে, আদতে সে মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কিনা সেটি যেন নিয়মিত তদারকি করা হয়।
এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নভেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য (সৌদি সিপি) বৃদ্ধির কারণে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
বিইআরসির নির্ধারণ অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। সে হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সৌদি সিপি বৃদ্ধির কারণে গত মাসের তুলনায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ প্রায় ৭৪ টাকা বেড়েছে।
নভেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের দাম প্রতি টন ৭২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৭৫৯ ডলার। এর সঙ্গে এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম প্রতি টন ২৫০ ডলার এবং ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ৪৬ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি এলপিজির দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এলপি গ্যাস পিএলসি সরবরাহকৃত ১২ দশমিক ৫০ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম মূসকসহ ১৬৫ টাকা ৮৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি লিটারের দাম ৩৬ পয়সা ৮৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ঘনমিটারের দাম ৩৬৮ টাকা ৫০ পয়সা। অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিক্রেতাদের কমিশনও। আমদানিকারকদের মজুদকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ দশমিক ৭৬ টাকা। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।
গত মাসের শেষ দিকে এলপিজির বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হলে আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে দেন। এতে করে ১৫৮৫ টাকার এলপিজি কোথাও কোথাও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা হতে থাকে।
এর আগে অক্টোবর মাসে এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হয়েছিল।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






