রাউজান প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে রাতের আঁধারে পরপর দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চালক ও পরিবহন মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুণ্ডেশ্বরী এলাকায় সড়কের পাশে রাখা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর দুদিন আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হামদু মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি ডাম্প ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে কুণ্ডেশ্বরী এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের পাশে একটি বহুতল ভবনের সামনে পিকআপটি রাখা ছিল। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে পিকআপটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়।
পিকআপটির মালিক ও চালক টিটু দাশ বলেন, প্রতিদিনের মতো তিনি গাড়িটি সড়কের পাশে রেখে বাড়িতে চলে যান। রাত ১২টার দিকে গাড়িটি দেখতে গিয়ে তখনও সেটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। পরে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি পুড়ে যেতে দেখেন।
তিনি বলেন, কার বিরুদ্ধে মামলা করব? আমার পরিবারের ভরণপোষণ এবং আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই গাড়ি। সেটিও পুড়ে শেষ হয়ে গেল।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হামদু মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের পাশে রাখা একটি ডাম্প ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, রাত আড়াইটার দিকে ট্রাকটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা কেউ দেখতে পাননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
পরপর দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রাতে সড়কের পাশে গাড়ি রাখার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চালক ও মালিকরা।
এদিকে ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক নাশকতা দাবি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো পক্ষকে দায়ী করেনি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, আওয়ামী লীগ অগ্নিসন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের দোসররাই এসব ঘটনায় জড়িত—এমন দাবি করে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিত নাশকতা। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, দুটি ঘটনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কেউ মামলা বা অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের প্রকৃত কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/জয়নাল/এমকেএন






