কর্ণফুলী থেকে উদ্ধার বস্তাবন্দি নারীর পরিচয় শনাক্ত, হত্যা মামলা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পিডিবি ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)। পরিবারের সদস্যরা জুতা, কানের দুল, পোশাক ও চেহারা দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ।

নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও তার পরিবার।

পুলিশ জানায়, গত ১ আগস্ট পিডিবি ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্তের জন্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মরদেহের বিষয়ে তথ্য প্রচার করা হয়।

এরপর জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যরা সদরঘাট নৌ থানায় এসে মরদেহের জুতা, কানের দুল, পোশাক ও চেহারা দেখে সেটি তাদের পরিবারের সদস্যের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরির কারণে পরিবারকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন জান্নাতুল। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারলেও ওই বিয়ে মেনে নেননি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে জান্নাতুলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদ চলছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে জান্নাতুলকে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে কর্ণফুলী নদীর তীরে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল এবং কারা এতে জড়িত, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় জান্নাতুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সদরঘাট নৌ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

সদরঘাট নৌ থানার ওসি আবদুর রউফ বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top