চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নগর সরকারব্যবস্থা এখনো কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণের আওতায়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে স্থায়ী স্বস্তি পাবেন চট্টগ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খাল খনন, ডাইভারশন, রেগুলেটর ও সড়ক উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। এসময় এ আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী তার কর্মসূচির শুরুতে মহেশ রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বারেক বিল্ডিং মোড়, কোতোয়ালি, মেরিন ড্রাইভ, কলাবাগিচা, টেকপাড়া, চাক্তাই ও রাজাখালী খালের চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। এছাড়া তিনি বাকলিয়া এক্সেস রোড, চন্দনপুরা, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড় এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় বৃদ্ধি ও সময় বাড়ার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। কোথায় কী কারণে ব্যয় বেড়েছে বা জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চলমান খাল সংস্কারকাজের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় ভোগান্তি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ প্রকল্প নগরবাসীর উপকারে আসবে। পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি স্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, জামালখানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আবার চট্টগ্রাম সফর কৃরে খাল সংস্কারের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি।
খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরীর ৩৬টি খাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব খাল পরিষ্কার রাখা, সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে সচল রাখা এবং খালে যাতে ময়লা-আবর্জনা না পড়ে, সে জন্য নেটিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খাল হস্তান্তরের পর এক বছর সেনাবাহিনী ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে থেকে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





