৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিদায়, আবেগঘন মিয়াজান স্যারের শেষ কর্মদিবস

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: প্রায় ৩৫ বছর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ার পর শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায় নিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বারমাসিয়া আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মিয়াজান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে বিদ্যালয়ের স্বাক্ষর বহিতে শেষ সাক্ষর করার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সেই মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মিয়াজান স্যার। ছবিতে ফুটে ওঠে দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার আবেগ, তৃপ্তি ও অসংখ্য স্মৃতির ছায়া।

শেষ কর্মদিবসে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মিয়াজান স্যার লিখেছেন, আজ আমার শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস। আল্লাহর নিকট হাজারো শুকরিয়া যে, তিনি আমাকে সুস্থ শরীরে এবং সম্মানের সঙ্গে চাকরি জীবন শেষ করার তৌফিক দান করেছেন। আমি আমার পরিবার ও আমার সুখময় ভবিষ্যতের জন্য সকলের দোয়া/আশীর্বাদ কামনা করি।

১৯৮২ সালে এসএসসি পাস করার পর ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন মো. মিয়াজান। এরপর ১৯৯২ সালের ১ জুন ফটিকছড়ির প্রত্যন্ত বারমাসিয়া গ্রামের আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন।

এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁর শ্রেণিকক্ষে বসে জ্ঞান ও জীবনের নানা শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তাঁদের অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের কাছে মিয়াজান স্যার শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং জীবনের পথ দেখানো একজন প্রিয় মানুষ।

শিক্ষকতা জীবনে তিনি পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি দিনই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিবেদিত ছিল তাঁর।

শেষ কর্মদিবসে স্বাক্ষর বহিতে শেষ স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাঁর চাকরিজীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটেনি। শ্রেণিকক্ষের পরিচিত কণ্ঠ, শাসন-স্নেহ, বিদ্যালয়ের আঙিনায় কাটানো অসংখ্য দিন ও স্মৃতি হয়তো বারবার ফিরে আসবে তাঁর মনে।

কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মিয়াজান স্যারের কণ্ঠে তাই তৃপ্তির পাশাপাশি রয়েছে মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। সুস্থ শরীরে ও সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন শেষ করতে পারায় তিনি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন।

মো. মিয়াজানের পিতা বজল আহমদ। কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি তাঁর পরিবার ও আগামীর সুখময় জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

চাটগাঁ নিউজ/ফরিদ/এমকেএন

 

Scroll to Top