রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া কাপ্তাই সড়কে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় ৬ জন সন্ত্রাসী। এর মধ্যে দুজন খুব কাছ থেকে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের বাড়ি পাশের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে। তিনি ওই এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর সন্তান এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে তার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে পাহাড়তলী বাজারে অবস্থান করছিলেন মাকসুদুল হক চৌধুরী। এ সময় হঠাৎ ৬ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে ঘিরে হামলা চালায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনের হাতে পিস্তল ছিল। এদের মধ্যে একজন টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরিহিত ছিল। তারা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় মাসুদের খুব কাছে গিয়ে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পরপর গুলি ছুড়ে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে। মাথায় গুলি লাগায় ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুদের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছি। ফুটেজে স্পষ্টভাবে ৬ জন হামলাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে দুজনের হাতে পিস্তল দেখা গেছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনও দুপুর দেড়টার দিকে মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা এক যুবকের প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া মূল খুনিদেরই একজন এই যুবক।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ঘটনাস্থল পাহাড়তলী চৌমুহনী ছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাট, গোচরা, ইছাখালী, রোয়াজারহাট এবং থানা পোস্ট অফিস মোড়সহ কাপ্তাই সড়কের একাধিক স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। ফলে দুপুর দেড়টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। তার দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেল সোয়া চারটার দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর কাপ্তাই সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মাসুদ এলাকায় বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তার এই অবস্থানের কারণেই তাকে টার্গেট করে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





