শেষ সময়ে গোল করে বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপজুড়ে অপরাজিত স্পেনের সামনে এবার ছিল কঠিন পরীক্ষা! বেলজিয়ামই প্রথম দল, যারা এই টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করতে সক্ষম হয়। অবশ্য শেষ হাসি হেসেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলই। বদলি নেমে ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি অলমো, আলেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবালের দ্রুত পাসিংয়ে বারবার চাপে পড়ে বেলজিয়ামের রক্ষণ। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও প্রথম গোল আসে ৩০তম মিনিটে। পেদ্রো পোরোর নিচু ক্রস থেকে অলমোর শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে জালে জড়িয়ে দেন ফাবিয়ান রুইস।

গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। কিন্তু ৪১তম মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে তারা। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ে নিখুঁত ক্রস তুলে দেন বক্সে। সেখানে তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসিকে হারিয়ে দুর্দান্ত হেডে উনাই সিমোনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলার। সেই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম এবং স্পেনের টানা পাঁচ ম্যাচের ক্লিনশিটের অবসান ঘটে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। লামিন ইয়ামালের ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতায় একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কোর্তোয়া। ৫৬তম মিনিটে পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন স্পেনের কোচ।

অন্যদিকে রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল ভিতসেলদের মাঠে নামিয়ে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া। তবে ৭১তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। উরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই বেঞ্চে ফিরতে হয় তাকে। তার জায়গায় নামেন সেনে ল্যামেন্স।

কোর্তোয়ার বিদায়ের পর স্পেনের চাপ আরও বাড়তে থাকে। ইয়ামাল, পেদ্রি ও রদ্রির নিয়ন্ত্রণে মাঝমাঠ পুরোপুরি দখলে নেয় লা রোহা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত।

৮৮তম মিনিটে পাও কুবারসির দূরপাল্লার শট ল্যামেন্স ঠিকভাবে তালুবন্দি করতে পারেননি। বল তার হাত ফসকে সামনে পড়তেই সুযোগ লুফে নেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। খুব কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। আগের ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো; এবারও একই ভূমিকায় দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন এই মিডফিল্ডার।

শেষ কয়েক মিনিটে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও আর সমতায় ফিরতে পারেনি বেলজিয়াম। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির।

৭০ শতাংশ বলের দখল, ১৬টি শট এবং পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল—সব মিলিয়ে স্পেন তাদের আধিপত্যের যথার্থ প্রতিফলনই পেয়েছে। তবে বেলজিয়ামও লড়াই করেছে সাহসিকতার সঙ্গে এবং এই বিশ্বকাপে স্পেনের অজেয় রক্ষণে প্রথম ফাটল ধরানোর কৃতিত্ব তাদেরই।

এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে এবার আরেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ-কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top