শাহ আমানত বিমানবন্দর ঘিরে ৫ দফা প্রস্তাব চট্টগ্রাম চেম্বারের

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিমানবন্দরটি পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, পর্যটন ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হতে পারে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

চিঠিতে বলা হয়, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরকে ঘিরে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার ব্যবস্থা করা, আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে ৪০ শতাংশ প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ চালু করা এবং দূরপাল্লার ফ্লাইটের ক্রুদের জন্য বিমানবন্দরে থাকা ও অবস্থানের সুবিধা নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা চালু এবং বিমানবন্দরের আশপাশে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার (বুট) পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) অথবা কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শাহ আমানত বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের এভিয়েশন কার্যক্রমের বড় একটি অংশ ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে চাপ বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে ঢাকার ওপর এ চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং ভবিষ্যৎ বে-টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শাহ আমানত বিমানবন্দর ঘিরে বড় পরিসরে কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা পিপিপিসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ মডেলে অংশ নিতে আগ্রহী বলেও জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যানের আদলে শাহ আমানত বিমানবন্দরের জন্যও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় ট্যারিফ কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও কার্গো অপারেটরদের চট্টগ্রামমুখী করার সুযোগ তৈরি হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার মনে করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবেই নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও লজিস্টিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top