লামায় তিন ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকা-মোবাইল লুট

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় আবারও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের হিমছড়িপাড়া এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও নতুন কাপড়চোপড় লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা কয়েকটি বাড়িতে রান্না করা ভাত-তরকারিও খেয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো গরু ব্যবসায়ী আহমদ হোসেন, ছৈয়দ আমিন ও গুরা পুতুর পরিবার।

স্থানীয়দের দাবি, ১০ থেকে ১১ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল পাহাড় থেকে নেমে প্রথমে ছৈয়দ আমিনের বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রান্না করা ভাত-তরকারি খেয়ে চলে যায়। পরে তারা গুরা পুতুর বাড়িতে গিয়ে নগদ ৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে। সেখানেও তারা রান্না করা খাবার খেয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবশেষে ডাকাতরা আহমদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে একটি কক্ষে জড়ো করে তাদের হাত পেছনে বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে থাকা প্রায় লক্ষাধিক টাকা, মোবাইল ফোন ও নতুন কাপড়চোপড় লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আহমদ হোসেন জানান, ডাকাতরা প্রথমে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তাকে বুকে লাথি ও হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তার স্ত্রীকে দা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তার ছেলেকে মারধর শুরু করলে প্রাণভয়ে ঘরে থাকা সব টাকা-পয়সা ডাকাতদের হাতে তুলে দেন।

এ বিষয়ে আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুর রহিম বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। আমার বাবা গুরুতর হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই ইউনিয়নে সাংবাদিক কায়ছার হামিদ ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গিরের বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আজিজনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন

Scroll to Top