রাউজান প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মদাতা বাবাকে মারধর করে হত্যাচেষ্টা, ৫ লাখ টাকা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আশরাফুল গণি (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তারের পর আশরাফুল গণিকে রাউজান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আশরাফুল গণি রাউজান উপজেলার সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি আলহাজ মো. শফিকুল আলমের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব-৭ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হত্যাচেষ্টা মামলার পলাতক প্রধান আসামি আশরাফুল গণি রাউজান এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭-এর একটি দল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাউজান আদালতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে রাউজান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী একজন বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে-মেয়েরা তাকে যথাযথ মর্যাদা, ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসেবা দেন না। এর মধ্যে তার ছেলে আশরাফুল গণি তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বসতঘরের ভেতরে গাছের লাঠি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়। এতে তার মুখ, বুক, পিঠ, তলপেট, হাত, পা, কাঁধ ও বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। যাওয়ার সময় দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা না দিলে যেকোনো সময় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, আশরাফুল গণির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রাউজান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, জন্মদাতা পিতাকে মারধরের অভিযোগে গত ১৮ আগস্ট তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি মো. আশরাফুল গণিকে র্যাব গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করার পর বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জয়নাল/এমকেএন





