মুশফিকের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের লক্ষ্য ৪৩৭ 

ক্রীড়া ডেস্ক: মুশফিক দিনটা শুরু করেছিলেন একেবারে শূন্য থেকে। বাংলাদেশ শুরু করেছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ রানে। সেখান থেকে দিনের শেষ সেশনের শেষভাগে বাংলাদেশের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক যখন আউট হলেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯০, মুশফিকের নামের পাশে ১৩৭ রান। তাতে সিলেট টেস্টে জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।

রান তাড়ায় দিনের শেষ ভাগে দুই ওভার ব্যাটিং করলেও স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করতে পারেনি পাকিস্তান। অর্থাৎ জিততে হলে টেস্টের শেষ দুই দিনে ৪৩৭ রানই করতে হবে শান মাসুদ-বাবর আজমদের।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিংবা সিলেটের অতীত রেকর্ড বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। আর ম্যাচের পাল্লা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি আদায় করে মুশফিক থেমেছেন ১৩৭ রানে। তাতে একগাদা রেকর্ডে উঠেছে ৩৯ বছর বয়সী ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানের নাম।

শুরুতে মুশফিকের রেকর্ডগুলোর দিকেই তাকানো যাক। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি মুশফিকের ১৪তম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে লাল বলের ক্রিকেটে এত বেশি সেঞ্চুরি করতে পারেননি আর কেউ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩টি সেঞ্চুরি মুমিনুলের দখলে।

এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি আদায় করে মুমিনুলের পাশে বসেন মুশফিক। আজ তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ছাড়িয়ে গেলেন মুমিনুলকে।

সে পথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন মুশফিক। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে আগে থেকেই সর্বোচ্চ রানের দখলটা নিয়েছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।

সিলেট টেস্টের আগে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মুশফিকের রান ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকের রান এখন ১৬ হাজার ৫৮।

১৫ হাজার ১৯২ রান নিয়ে এ তালিকায় দুইয়ে তামিম ইকবাল। তিনে থাকা সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ হাজার ৭৩০ রান।

সিলেট টেস্টের দলে আছেন, এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিকের পরের অবস্থান লিটন দাসের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮ হাজার ৮৪১ রান নিয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ৫ নম্বরে তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১২৬) আদায় করা লিটন।

মুশফিক-লিটনে ভর করে বাংলাদেশ যে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে, তাতে বলতে গেলে জয়ের সুবাসও পাচ্ছে ফিল সিমন্সের দল। আর বাংলাদেশকে জয়ের সুবাস দিচ্ছে সিলেটের অতীত ইতিহাস।

পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে সিলেটে যে ৫টি টেস্ট হয়েছে, এর মধ্যে চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ার ঘটনা ঘটেছে মোটে একটিতে। আর সেটা ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ১৭৪ রান তাড়া করে ৩ উইকেটের জয়।

এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জিততে হলে সিলেটের রেকর্ডই নতুন করে লিখতে হবে পাকিস্তান। আর সেটা পাকিস্তানের জন্য কতটা কঠিন, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়।

চলমান টেস্টের আগ পর্যন্ত, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা শেষ তিনটি টেস্টেই হেরেছে পাকিস্তান। সেই তিন টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। যেখানে দুই শ-ই করতে পারছে না, সেখানে বাংলাদেশের ৪৩৬ পেরিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখা পাকিস্তানের জন্য বিলাসিতাই হওয়ারই কথা!

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top