ক্রীড়া ডেস্ক: দিনের শুরুটা রঙিন করে দিয়েছিলেন বোলাররা, আর শেষটা রাঙালেন ব্যাটাররা। সিলেটে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৩২ রানে গুটিয়ে দিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। এতে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রানের। হাতে রয়েছে আরো ৭ উইকেট।
প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকেরা। খুররম শেহজাদের বলে গালিতে সৌদ শাকিলকে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৪ রানে বিদায় নেন অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এরপর ওয়ানডে মেজাজে খেলে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চড়াও হন মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান জয়। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন ৯১ বলে ৭৬ রানের চমৎকার একটি জুটি গড়েন।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদুল। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংসটিকে আর বড় করতে পারেননি তিনি, ৫২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দিনের শেষভাগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বেঁধে ভালোই এগোচ্ছিলেন মুমিনুল। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে খুররম শেহজাদের বলে অযথা খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে ধরা পড়েন মুমিনুল (৬০ বলে ৩০ রান)। তার বিদায়ের পরপরই আম্পায়াররা দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অধিনায়ক শান্ত ১৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
এর আগের সকালের প্রথম সেশনে পাকিস্তানকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্বাগতিকদের সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি পেসারের বলে আব্দুল্লাহ ফজলের (৯) ব্যাটের কানা ছুঁয়ে আসা বল বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে তালুবন্দি করেন লিটন দাস। এরপর ঢাকা টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইসকে (১৩) শর্ট লেগে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাসকিন। ২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। এরপর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করা পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়ক শান মাসুদকে (২১) আউট করে বাবর আজমের সঙ্গে তার ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেটের পতনও ঘটান এই অফস্পিনার। মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে রান তুলতে হাঁসফাঁস করতে থাকা সৌদ শাকিল (২৮ বলে ৮) চাপ কমাতে সুইপ করতে যান। কিন্তু বল ব্যাটের কানায় লেগে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে।
৪ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় পাকিস্তান। বিরতির পর উইকেটে থিতু হওয়া বাবর আজম ৬৩ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন। তবে ইনিংসটি বড় করতে পারেননি তিনি। নাহিদ রানার মিডল স্টাম্পের ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন বাবর (৮৪ বলে ৬৮ রান)। ১৪২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের ইনিংসে আঘাত হানেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দেন আগা সালমান (২১)।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ১৩ রানে বোল্ড করার পর হাসান আলীকেও (১৮) লং অনে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল। খুররম শেহজাদকে (১০) আউট করে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান নাহিদ রানা। ১ উইকেট বাকি থাকতে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৯ উইকেটে ১৯৩, তখন শেষ উইকেটে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন সাজিদ খান। তার ২৮ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ২৩২ রান পর্যন্ত পৌঁছায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত সাজিদকে থামিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন নাহিদ রানা। তানজিদ তামিম ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নেন।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের রান ছিল ২৭৮। ফলে ৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। এছাড়া দুটি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





