চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটে সংবাদ সম্মেলন করেছে এনসিপি।
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির ৩ নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ধস্তাধস্তিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যাম্বুলেন্স চালক সমিতি।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী সেজে এনসিপি নেতারা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ভাড়া নৈরাজ্য তদারকি গিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাট ঘটে। ঘটনার পর দুই পক্ষ পূর্ব গেটের দুই পাশে অবস্থান নেয়। এতে হাসপাতাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। বিকেল সোয়া পাঁচটার পর উভয় পক্ষ সেখান থেকে সরে যায়।
এনসিপির দাবি, ধস্তাধস্তিতে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আজগর আলী আশিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাদাত এবং চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ চৌধুরী আহত হয়েছেন। তারা বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেটে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি। এ সময় কিছু দূরে অবস্থান নেয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী পরিবহনের পুরো বিষয়টি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। সমিতির সদস্যদের বাইরে অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়। সমিতির লোকজন রোগী, রোগীর স্বজন এবং অ্যাম্বুলেন্সচালকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, এ কারণে রোগীর স্বজনদের নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে বাধ্য হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বহু অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে তারা নিজেরাই ভুক্তভোগী সেজে সকালে নোয়াখালী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। সেখানে ভাড়া চাওয়া হয় ১২ হাজার টাকা, যা নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। কয়েক দিন আগে ফেনী যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল, যদিও নির্ধারিত ভাড়া সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সমিতির সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, চমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সুযোগ নেই। সমিতির নামে পরিচালিত একটি সিন্ডিকেট পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এ সিন্ডিকেটের পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বাইরের কাউকে রোগী পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি চলতে পারে না।
অন্যদিকে হাসপাতালের পূর্ব গেটের বাইরে অবস্থান নেয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সদস্যরা। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নাকচ করেন।
সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার একটি অংশ সমিতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়। প্রায় ১০ মাস আগে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।
এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগও অস্বীকার করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া এক বছর আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল, এরপর তা সমন্বয় করা হয়নি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামসহ বিভিন্ন ব্যয় বেড়েছে। সে কারণে আগের ভাড়ার তুলনায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে দুই থেকে তিন গুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দাবি, এনসিপির নেতা-কর্মীরা তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। বৈঠকে রাজি না হওয়ায় তারা পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






