রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহৃত শিশুর নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭)।
সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরফভাটা এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুল ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল তাসকিন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নাম ধরে ডেকে বলে, ‘তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি।’ শিশুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
শিশুটির সঙ্গে থাকা অন্য দুই শিশু দৌড়ে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। খবর পেয়ে বাবা দেলোয়ার হোসেন আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও মেয়ের কোনো সন্ধান পাননি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপহরণের আগে সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। অটোরিকশায় দুইজন যাত্রী এবং চালকের আসনে সাদা লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিবারের ধারণা, অপহরণকারীরা আগে থেকেই শিশুটির পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য সম্পর্কে অবগত ছিল। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজে সন্দেহভাজন অটোরিকশাটির চলাচলের কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাসকিনের মা তাসলিমা বেগম বলেন, পারিবারিক কিছু সমস্যা থাকলেও স্থানীয়ভাবে কারও সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। তিনি তার মেয়েকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, প্রতিদিনের মতোই স্কুল শেষে তাসকিন বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। সহপাঠীদের সামনেই এভাবে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





