দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের অবসান কী হতে যাচ্ছে?
কমতির পথে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: টানা ৫৭ দিন পর গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। বর্তমান সরবরাহ ২ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে কমবেশি ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে বলে জানা গেছে। এতে করে দেশে চলমান গ্যাস সংকটের অবসান হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোবাংলা থেকে। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা!

কারণ কমতির পথে রয়েছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। আমদানি অংশ পূর্বের অবস্থানে ফিরলেও দেশীয় উৎপাদন পূর্বের অবস্থায় ফেরার সুযোগ নেই। যেখানে ২১ জুলাই দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, সেখানে এখন তা ১ হাজার ৬২০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। ফলে মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিদিনই কমছে উৎপাদন।

এদিকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে পেট্রোবাংলা। কোনো কারণে সংকট হলে মঙ্গলবার থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদি সংশ্লিষ্টরা। এরমাধ্যমে ৫৭ দিনের ভয়াবহ গ্যাস সংকটের অবসান হচ্ছে মর্মে আশাও প্রকাশ করছেন তারা।

জানা গেছে, গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্যাস সংকটের সুত্রপাত হয়। কয়েক সপ্তাহ পরে এফএসআরইউ মেরামত হলেও শুরু হয় কার্গো সংকট। বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে। বিদ্যমান দু’টি এফএসআরইউ দৈনিক সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দিতে সক্ষম।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার এবং ওমান থেকে এলএনজি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুন দামে কিনতে হচ্ছে এলএনজি। ডিপিএম পদ্ধতিকে ৪ কার্গো এলএনজি আমদানির আদেশ দেওয়া হয়। যেগুলো কোনটাই দেশে আসেনি, যে কারণে মারাত্মক গ্যাস সংকট চলমান।

তাইতো পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সহসা ২১ জুলাই পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানি অংশ পূর্বের অবস্থানে ফিরলেও দেশীয় উৎপাদন পূর্বের অবস্থায় ফেরার সুযোগ নেই বললেই চলে। ২১ জুলাই দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা এখন ১ হাজার ৬২০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিদিনই কমছে উৎপাদন। তাই দিন যত গড়াচ্ছে সংকট তত বাড়ার শঙ্কা তৈরী হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে অনেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলা এক পরিচালক বলেন, ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ ছিল ২ হাজার ১০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা এখন ১ হাজার ৬২০ মিলিয়নে নেমে গেছে। দুই বছরে দেশীয় উৎসের গ্যাস কমেছে ৩৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। যে কারণে সংকট প্রকট মনে হচ্ছে।

এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। উদ্বেগের বিষয় বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়া। ফিল্ডটি থেকে এখনও সাড়ে ৪৫ শতাংশের মতো গ্যাস যোগান আসছে। আর কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এক সময়ে ১৩৫০ মিলিয়নের মতো উৎপাদন দিতো সেখানে আজ সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সেটি ৭৩০ মিলিয়নে নেমে গেছে। মজুত কমে আসায় দ্রুতই কমে যাচ্ছে উৎপাদন।

চাহিদা যখন বাড়ন্ত তখন প্রতিদিনই কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। চাইলেও সহসা আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে, যা খুবই সময় সাপেক্ষ। যে কারণে আসছে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনে ব্যাপক ধস নামার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী দেশে ৮টি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক)। মতান্তরে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিবেচনা করা হয়। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। ১৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ৮৮১ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, গ্যাস সরবরাহ বাড়লে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে। তাতে লোডশেডিং সামাল দেওয়া সহজ হবে। আমরা আশা করছি ২০ সেপ্টেম্বর নাগাদ গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, কমে আসবে লোডশেডিং।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ 

Scroll to Top