চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বুধবার (১৩) বিকেলে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনাসহ বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে সেশনজট তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং পাঠদান কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল রাখতে সরকার বাস্তবসম্মত সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শেষে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়া হবে। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে সেশনজট পুরোপুরি নিরসন করে পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেন অতিরিক্ত দুই বছর ঝরে না পড়ে, সে জন্য আমরা ধীরে ধীরে সবকিছু সমন্বয় (সিংক্রোনাইজ) করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেশনজট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত করা হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত করা। অতীতে শিক্ষাক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপনা ছিল, তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য ড. হিসাইন আরাবি নূরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা তুলে দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বেশির ভাগই ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের মতে, এক বছরেই চার মাস সময় কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা চাপের মুখে পড়বে এবং শিখন ঘাটতি তৈরি হবে।
সভায় আলোচনায় উঠে আসে, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিল বা জুনে আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা ভালো প্রস্তুতির সুযোগ পাবেন। ধাপে ধাপে সময় এগিয়ে এনে ভবিষ্যতে ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শও দেন অংশগ্রহণকারীরা।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





