ডিসির গণশুনানিতে উঠে এলো অসহায় মানুষের নানা সমস্যা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয়, দারিদ্র্য, উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধসহ নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানিতে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এ গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর এলাকার সেবাপ্রত্যাশীরা সরাসরি তাদের অভিযোগ ও আবেদন তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থানরত পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশিও তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গণশুনানিতে রাঙ্গুনিয়ার জাফর আহমদ চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতা চান। পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকার পিংকি হিজড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান। বাঁশখালীর মর্জিয়া বেগম বার্ধক্যজনিত নানা রোগের চিকিৎসায় সহায়তা কামনা করেন। অন্যদিকে স্বামী-সন্তানহীন হাসিনা বেগম শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আর্থিক অক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।

লোহাগাড়ার এক গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত রিতা দাশ পৃথকভাবে তাদের বাবার ক্যানসারের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।

পাহাড়তলী এলাকার আনোয়ারা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় পিত্তথলির অস্ত্রোপচারও করাতে পারছেন না।

এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সেলিম ভূঁইয়া পড়াশোনা চালিয়ে নিতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির আবেদন করেন।

অনলাইন গণশুনানিতে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জাল দলিল তৈরি, পারিবারিক হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়ার দুই বাসিন্দা জমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরেন।

সব অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

গণশুনানি শেষে চরম আর্থিক সংকটে থাকা নয়জনকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা এবং চারজন দুস্থ নারীকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি আবেদনপত্রের পেছনে একটি মানুষের কিংবা একটি পরিবারের বাস্তব কষ্টের গল্প থাকে। সরকারি নীতিমালার আওতায় প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top