হাটহাজারী প্রতিনিধি: হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার দুর্জয় দেওয়ানজীর দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে এক মাসের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশে যান দুর্জয় দেওয়ানজী। পরে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের ছুটি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তবে বর্ধিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ছুটিতে যাওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ওষুধের স্টোর ব্যবস্থাপনা, ওষুধ বিতরণ এবং মেয়াদ যাচাই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুর্জয় দেওয়ানজী চলতি বছরের শুরু থেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে ছিলেন না। বছরের প্রথম দিকে প্রায় চার মাস অনুপস্থিত থাকার পর জুন মাসে আবারও বহিঃবাংলাদেশ ছুটিতে যান তিনি।
তার ছুটির আবেদনে চিকিৎসার বিষয় উল্লেখ করা হলেও কার চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে গেছেন, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্টোর কিপারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী শৈবাল সেন তার অসুস্থতার কথা জানালেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানিয়েছেন, দুর্জয়ের পিতা অসুস্থ।
ছুটির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে সেগুলো না দেখার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করা হয়। ফলে ছুটির প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
স্টোর কিপারের অনুপস্থিতির মধ্যে হাসপাতালের ওষুধের স্টোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্টোরে থাকা ওষুধের মেয়াদ নিয়মিত যাচাইয়ের জন্য একজন মেডিকেল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের আশঙ্কা, যথাযথভাবে ওষুধের মেয়াদ যাচাই ও ব্যবস্থাপনা করা না হলে ভবিষ্যতে ওষুধের অপচয় কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে।
তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার সঙ্গে স্টোর কিপারের অনুপস্থিতির সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
স্টোর কিপারের ছুটি ও স্টোর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানান, দুর্জয় দেওয়ানজী প্রথমে এক মাসের ছুটি নিয়েছেন। পরে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে ছুটির মেয়াদ ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে মুঠোফোনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে পরবর্তীতে কার্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, দুর্জয় দেওয়ানজীকে দ্রুত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানিয়া আক্তার বিল্লাহ বলেন, দুর্জয় কখন ছুটিতে গেছেন এবং কী কারণে গেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্টোর কিপারের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ছুটির মোট মেয়াদ জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
চাটগাঁ নিউজ/শোয়াইব/এমকেএন





