চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীনেতারা। তাঁরা চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিল অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের (Paul Frost) নেতৃত্বে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দের সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে মতবিনিময়কালে তাঁরা এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে উৎপাদনশীল খাতের প্রযুক্তি এবং মেশিনারিজ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সুনাম রয়েছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামিটে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা যদি অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে উভয় দেশের নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে পারবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের অ্যাগ্রো সেক্টর এবং সরকার ঘোষিত বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কটন ও ম্যানমেইড ফাইবার খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
সভায় চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু (David Moo), সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ ছালাম, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারি কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানি, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া, অ্যাগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ বক্তব্য দেন।
কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট বলেন, আজকের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রমোট করা। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা জানতে চাওয়া।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সাথে কাজ করছে।
তিনি যেকোনো বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত দেন।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। তাই দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপযুক্ত সময় এখনই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।
তিনি যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ব্যবসা, সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে অবদান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালের অবকাঠামোগত খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফ্রি-ট্রেড জোনের সুবিধা নিতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান।
তিনি বলেন, ফ্রি-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোনো ধরনের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উইন উইন ভিত্তিতে কাজ করতে চায়, যেখানে উভয়দেশই সমানভাবে লাভবান হবে।
ডেপুটি পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে কাজ করছে। বাংলাদেশে অনেক মার্কিন কোম্পানি রয়েছে। আবার অনেক কোম্পানি পণ্য বিক্রি করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে তবে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়বে।
সভায় চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দূতাবাসের পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, চেম্বার পরিচালক এসএম সাইফুল আলম, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এএসএম ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মো. সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী, জহুরুল হক সেলিম, মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার ডিরেক্টর মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও রিটজি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা মো. জামশেদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






