চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স (সিআইআইটিসি) ট্রাস্টের রেজুলেশন জালিয়াতি, ব্যাংকের সিগনেটরি পরিবর্তন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম খান।
গতকাল চট্টগ্রাম ৫ম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জাহাঙ্গীর আলম খানের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে তাকে ৯০ বছর বয়সী দাবি করে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে বাদীপক্ষের দাবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৮২ বছর।
জামিন আদেশের পর বাদীপক্ষের প্রধান কৌশুলী অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান সাংবাদিকদের জানান, আসামি নিজেকে অবৈধভাবে ট্রাস্ট বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে এবং হাসপাতালের বৈধ চেয়ারম্যানকে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত রেখে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন আসামির যোগসাজশে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে জাল নথিপত্র দাখিল করে অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি বা স্বাক্ষরকারী পরিবর্তন করেন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার তহবিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবৈধ উপায়ে স্থানান্তর, তছরুপ ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের আশ্রয় নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট ও দালিলিক প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠানের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি জানান, যে কারণে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান এম এ মালেক খুলশী থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৪২০, ৪০৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪১৯ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি (মামলা নং-৪(৬)২৬) দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম খান ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা ট্রাস্টের আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সিআইআইটিসি ট্রাস্ট বোর্ডের তথাকথিত ৯২তম সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯০তম সভার সিদ্ধান্তের বিপরীতে একটি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, বৈধ চেয়ারম্যান এম এ মালেককে অবহিত না করে এবং ট্রাস্ট ডিড অনুযায়ী ট্রাস্টিদের নোটিশ না দিয়েই তথাকথিত ৯১তম, ৯২তম ও ৯৩তম সভা আহ্বান করা হয়। এসব সভার মাধ্যমে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে ট্রাস্টের হিসাবের সিগনেটরি পরিবর্তন করা হয় বলে দাবি করা হয়।
শুনানিতে বাদীপক্ষ জানান, জাহাঙ্গীর আলম খানের বিরুদ্ধে খুলশী থানার আরেকটি মামলায় চিকিৎসাখাতের ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটে তিনি ৩ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ওই মামলায় উচ্চ আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং নিম্ন আদালত পাসপোর্ট জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন।
জামিন আদেশের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, বর্তমান মামলায় আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের স্বার্থে প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





