আমার ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি: শিক্ষামন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা বিরূপ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে এই দুঃখ প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার মন্তব্যে কেউ আহত হলে সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ফিজিক্স দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব।’

শিক্ষামন্ত্রীর এক মন্তব্যকে ঘিরে দিনভর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং উত্তরায় একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিগত বেশ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও জলাবদ্ধতার তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথারীতি চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কিছুদিন পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।

এর মধ্যে সোমবার প্রবল বর্ষণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মূলত এরপরই শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা শুরু হয়।

এদিকে, দুর্যোগের মধ্যেও কেন এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হলো—সেই বিতর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি– তা জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজের কেন্দ্র ছাড়া দেশের অন্যান্য কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালু রাখা হয়।

সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছিল বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু পরদিন কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেই কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা তখন নৌকায় করে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে।’

এ সময় পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রের ভুল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দ্রুত প্রশ্নপত্র তৈরি করায় পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিগত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। প্রয়োজনে তাদের পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top