রাঙ্গুনিয়ায় ধসে পড়ছে নদীরক্ষা ব্লক, সংস্কারের আশ্বাস এমপি হুমামের

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে নদীভাঙনের আশঙ্কা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পূর্ব সরফভাটা থেকে গোডাউন ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্লক ধসে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ভাঙনকবলিত ভূমিরখীল এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ব্যানার হাতে নদীভাঙন রোধে দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান। তাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে নদীরক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লক ধসে গিয়ে ভেতরের জিওটেক্সটাইল কার্পেট উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার বড় বড় অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীসংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ গভীর হয়েছে। ফলে নদীর পাড়ের মাটি সরে গিয়ে বাঁধের নিচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে ভূমিরখীলসহ আশপাশের এলাকায়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থানীয় সড়ক মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

পরিদর্শনকালে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, কয়েক মাস আগেও তিনি এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রবল স্রোতের কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। তাই নদীরক্ষা বাঁধ ও সংযোগ সড়কের সংস্কার এখন জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, পূর্বে সংস্কার করা অংশের পাশাপাশি নতুন করে ধসে যাওয়া ব্লকগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

বর্ষার তীব্রতা আরও বাড়ার আগেই নদীরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কার সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সরফভাটাসহ কর্ণফুলী তীরবর্তী মানুষের।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন

Scroll to Top