নিজস্ব প্রতিবেদক: ছেলের পশ্চাৎদার অস্বাভাবিক লাল ও ফোলা দেখে অভিভাবকরা ভেবেছিল হয়তো ছেলের পাইলস হয়েছে। দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে জানালেন পাইলস নয়, বলাৎকারের শিকার হয়েই পশ্চাৎদারের এই অবস্থা হয়েছে ছেলের। এ কথা শুনে অভিভাবকরা জানতে চাইলে ছেলে বলেন, মাদ্রাসার এক হুজুর ও আরো তিন শিক্ষার্থী তাকে গত এক বছর ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছে!
আর ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা নামের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। ঘটনাটি প্রথমে গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও পরে তা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে আজিজ উল্লাহ (২০) নামে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী পশ্চাৎদারে নানা সমস্যায় ভুগছিল। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এটি পাইলসজনিত সমস্যা বলে মনে করেন। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক এটি পাইলস নয় বলে জানান এবং শিশুটির সঙ্গে বলাৎকারের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহর দ্বারা নির্যাতন এবং একই কাজে মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছেন বলে জানান। একইসঙ্গে গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ওই চারজন মিলে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার প্রথমে মামলা করতে আসে। পরে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাদের অনুরোধ জানান, যাতে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তারা অভিভাবকদের বোঝান যে মামলা হলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তদের মধ্যে আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের থানায় হাজির হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। পরে আজিজ উল্লাহকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি জানিয়ে আরও বলেন, মামলা করা হলে এ ঘটনায় তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন/জেএইচ






