চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। চট্টগ্রামে সকাল থেকেই টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) ৩৯.০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে এবং পাহাড়ী এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরের জন্য এক নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা পর আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। আগামী আরও ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকতে পারে।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সারাদিনই বৃষ্টি হচ্ছে।
উত্তাল সাগরের কারণে পর্যটকদের সমুদ্রে গোসল না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি স্থানে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে লাইফগার্ড সদস্যরা মাইকিং করে গভীর পানিতে না নামার অনুরোধ জানাচ্ছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে।
তবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনেক পর্যটক উত্তাল সমুদ্র দেখতে সৈকতে ভিড় করছেন। কেউ দূর থেকে ঢেউ উপভোগ করছেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সতর্কতা উপেক্ষা করে কিছু পর্যটককে সমুদ্রে নামতেও দেখা গেছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





