চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ ১০টি অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা জানান, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে।
সবার জন্য উন্নয়ন
সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব অঞ্চলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা
তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী ও উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি
বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী ও উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও বিলম্ব কমিয়ে সহজ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা
এরপরেরঅগ্রাধিকার হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিকাশ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাণ, প্রকৃতি পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
এরপরের অগ্রাধিকার হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ এবং নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা
স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেধাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






