চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্ত। তবে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে থাকা বন্দীদের জন্য সেই আনন্দ অনেকটাই সীমাবদ্ধ। তবুও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও হাজতিসহ প্রায় ছয় হাজার বন্দী রয়েছেন। ঈদের ছুটির কারণে এবার তাদের সবাইকে কারাগারের ভেতরেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। এ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য বিশেষ খাবার ও ধর্মীয় আয়োজন রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই বন্দীদের জন্য ঈদকে আনন্দময় করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঈদের দিন সকালে কারাগারে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে অংশ নেবেন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং পরে বন্দীদের জন্য পৃথক জামাত আয়োজন করা হবে।
ঈদের বিশেষ খাবারের তালিকায় সকালে থাকবে পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে মুসলিম বন্দীদের জন্য পোলাও ও গরুর মাংস পরিবেশন করা হবে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য রাখা হয়েছে খাসির মাংস। এছাড়া রাতে আলুর দম ও রুই মাছ ভাজার ব্যবস্থাও থাকবে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক বন্দীর জন্য রান্নার পুরো কাজ পরিচালনা করবেন বন্দীরাই। ২৮টি চুলায় ধাপে ধাপে রান্না সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দীদের স্বজনরা চাইলে বাসায় রান্না করা খাবার কারাগারে পৌঁছে দিতে পারবেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম কারাগার ১৯৯৯ সালে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত হয়। বর্তমানে কারাগারটিতে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলী, সাংগু ও হালদা নামে কয়েকটি ভবন রয়েছে। যদিও কারাগারটির ধারণক্ষমতা দুই হাজার ২৪৯ জন, সেখানে বর্তমানে প্রায় তিনগুণ বন্দী অবস্থান করছেন।
এদিকে বন্দী মায়েদের সঙ্গে থাকা ৪০ শিশুও এবার কারাগারেই ঈদ কাটাবে। এসব শিশুর জন্য কারাগারে খেলাধুলা ও পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সদনে পাঠানো হয়।
স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকেও বন্দীরা যেন ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই বিশেষ এই আয়োজন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





