রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষের সমন্বয়ে বিভিন্ন পশুর হাট বসে থাকে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে শুধুমাত্র মহিষের একটি হাট বসে রাঙ্গুনিয়ায়, যা উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় মহিষের হাট হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুমাইবিল এলাকায় সারাবছর লালিত প্রায় ছয় শতাধিক মহিষ নিয়ে এবারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জমজমাট হয়ে উঠেছে এই বাজার। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর রাস্তার মাথা এলাকায় বসেছে এই ব্যতিক্রমী মহিষের হাট।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে বিপুল সংখ্যক মহিষের সমাগম ঘটেছে। দৃষ্টি যত দূর যায়, শুধু মহিষ আর মহিষ। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন মহিষ কিনতে। অনেকে ঘুরে ঘুরে পছন্দের মহিষ বেছে নিচ্ছেন।
হাটে তিন মন থেকে শুরু করে ৭–১০ মন ওজনের শত শত মহিষ উঠেছে, যেগুলোর দাম ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত।
বিক্রেতারা জানান, স্থানীয় মাদ্রাসার জন্য নামমাত্র হাটহাজিরা (হাছিল), দূর-দূরান্তে পরিবহনের সুবিধাসহ ক্রেতাদের জন্য নানা সুবিধা রাখা হয়েছে।
মহিষ ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫–২০ বছর ধরে গুমাইবিলে লালিত মহিষ নিয়েই এই বাজার গড়ে উঠেছে। সাধারণ পশুর হাট যেখানে কোরবানির ৩–৪ দিন আগে জমে ওঠে, সেখানে এই হাট ৮–১০ দিন আগেই সরব হয়ে ওঠে।
রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়াও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, রাউজান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি থেকেও ক্রেতারা এই হাটে আসেন। গুমাইবিলের লতাপাতা খেয়ে বড় হওয়া এসব মহিষের আলাদা কদর রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
তারা আরও জানান, গরুর তুলনায় মহিষের দাম সাধারণত ১০–১৫ হাজার টাকা কম হওয়ায় এবং রোগবালাই নিয়ে তুলনামূলক কম দুশ্চিন্তা থাকায় ক্রেতারা এখন মহিষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
রাউজানের নোয়াপাড়া থেকে মহিষ কিনতে আসা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগে গরু দিয়ে কোরবানি করতেন। তবে এবার রোগবালাইয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মহিষ দিয়ে কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গুমাইবিলের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা মহিষে কোনো কৃত্রিম ওষুধ ব্যবহার করা হয় না—এ তথ্য জেনে তিনি এই হাট থেকে মহিষ কিনেছেন বলেও জানান। তিনি এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকায় একটি মহিষ ক্রয় করেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার জানান, এবছর রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় ৪৮ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু মজুদ রয়েছে, যার মধ্যে তিন হাজারের বেশি মহিষ রয়েছে। গুমাইবিলের লতাপাতা খেয়ে বড় হওয়ায় এখানকার মহিষের আলাদা সুনাম রয়েছে।
এদিকে হাটে পশুচিকিৎসক টিম, জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





