ভান্ডারী গান গেয়ে পিতাকে দাফন, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া এলাকায় আব্দুস সালাম ওরফে মাইক সালাম ভান্ডারী-এর মৃত্যুর পর তাকে নিজ বাড়ির উঠানে ইটের তৈরি কবর করে দাফন করা হয়েছে। দাফনের আগে তার ছোট ছেলে ভান্ডারী গান পরিবেশন করেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত সোমবার সকালে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন আব্দুস সালাম। পরে দুপুর ২টায় ফলিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে উঠানে ইট দিয়ে কবর নির্মাণ করা হয়। দাফনের আগে তার ছোট ছেলে একটি ভান্ডারী গান পরিবেশন করেন। এ সময় উপস্থিত অনেককেই তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে গান গাইতে দেখা যায়।

মৃত পিতার খাটিয়ার সামনে ছেলের গাওয়া গানটির কিছু অংশ ছিল—
‘আমার মুর্শিদ পরশমণি গো,
লোহারে বানাইলায় কাঞ্চা সোনা।
মুর্শিদ চরণ অমূল্য ধন, জীবন থাকতে চিনলাম না।
মুর্শিদ চরণ যে করছে সাধন, বিনা দুধে দই পাতিয়া তুলিয়াছে মাখন,
সেই যে মাখন কর ভক্ষণ, ভবক্ষুধা থাকবে না।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্নজন সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।

সেলিম উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, এসব কুসংস্কারের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। একজন ইসলামিক বক্তা হিসেবে সেখানে উপস্থিতদের ইসলামের আলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত ছিল।

উখিয়ার আকবর নামের এক শিক্ষক বলেন, এটা কোনো ধর্মীয় রীতি হতে পারে না।

এ বিষয়ে জানতে ছোট ছেলে মুবিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে দোকানের এক কর্মচারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন।

অন্যদিকে, বড় ছেলে মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উখিয়া উপজেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাফর বলেন, কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী তার কাফন-দাফন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কয়েকদিন আগে উখিয়ায় যে ঘটনা ঘটেছে, তা আমার জীবনে এই প্রথম দেখলাম।

চাটগাঁ নিউজ/ইব্রাহীম/এমকেএন

Scroll to Top