রাঙ্গুনিয়ায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ জনের

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় গত কয়েকদিনে দুইজন কৃষকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। ফলে টানা তিনদিন ধরে অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকায় বজ্রপাতে হুমায়ুন কবির (৭০) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির সময় ঘরের টিনের চালে প্লাস্টিক দিতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, দুপুরে একবার তাকে চাল থেকে নামিয়ে এনে তারা একসঙ্গে নাস্তা করেন। পরে সবার অগোচরে তিনি আবার চালে উঠলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, টিনের চালে বজ্রপাতের ফলে বিদ্যুতায়িত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে, ২৭ এপ্রিল সকালে ইছাখালী জাকিরাবাদ এলাকায় মো. রানা নামে এক যুবক একইভাবে টিনের চালে উঠলে বজ্রপাতের সময় পাশের একটি গাছের ডাল ভেঙে তার ঘাড়ে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর পক্ষ থেকে নিহত হুমায়ুন কবিরের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তার পক্ষে উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন সমবেদনা জানান এবং সহায়তা তুলে দেন। একই দিনে তিনি আহত মো. রানাকেও দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

এর আগে, ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাঠের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মো. আমির শরীফ (৬২) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।

এদিকে, ২৯ এপ্রিল ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ এড়াতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় মো. সেলিম (৪০) নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক নিহত হন। তিনি চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও তিন যাত্রী আহত হয়েছেন।

২৮ এপ্রিলের ভয়াবহ ঝড়ে পুরো রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাপ্তাই সড়কের অন্তত চারটি স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন সড়কেও বড় বড় গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে বহু এলাকা।

এই আকস্মিক দুর্যোগে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন

Scroll to Top