বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম ও মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক গ্রামে আকস্মিকভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার একদিনে ১০ জনের বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে থুইনুপ্রু (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা রনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় মদক ভিতর পাড়ায় শুক্রবার হঠাৎ কয়েকজনের ডায়রিয়া দেখা দেয়। পরে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জনের বেশি হয়। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে থুইনুপ্রু (৩০) নামে এক নারী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
শনিবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঙানিংঅং (৬০) নামে আরও একজনকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বড় মদক গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের দুটি ছোট ফার্মেসিতে পর্যাপ্ত ওআরএস (খাবার স্যালাইন) ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় আক্রান্তদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে স্বজনদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চসিংমং মারমা বলেন, ‘মদক ঝিরির ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
বড় মদক গ্রামের বাসিন্দা মংমে মারমা বলেন, ‘একসঙ্গে কয়েকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাজারের ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন না থাকায় রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের একটি চিকিৎসক দল পাঠানো প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, বড় মদক গ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সেখানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা রনি বলেন, ‘৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় মদক ভিতর পাড়ায় একজন নারী হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাতে মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পর শনিবার সকালে দুর্গত এলাকায় একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। সেখানে কয়েকজন ডায়রিয়া রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, ‘বড় মদক ভিতর পাড়া এলাকায় ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ার খবর রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পানিশোধন ট্যাবলেটসহ একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি চিকিৎসক দল দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা এবং খাবার খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াছ/এমকেএন





