উখিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আগুনের প্রকৃতি ও গ্যাসের উপাদান জানতে বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলা জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোটখাল সংলগ্ন আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকার এই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বন্ধ রাখা বিদ্যুৎ সরবরাহ বুধবার রাতে স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে ওই এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবার। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ৩৬ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
আগুনের সূত্রপাতস্থল থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে দূরে রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বুধবার বিকেলে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ ছাড়া গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, গ্যাসের নির্গমন বা চাপ জোর করে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে এসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়েছে। আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এদিকে, আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আগুনের তীব্রতা ও ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনসাধারণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






