হাটহাজারী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (টিএসও) দাপ্তরিক গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে জরুরি রোগী, বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আরমানকে তাঁর দাপ্তরিক জিপ গাড়ি চালাতে দেখা যায়। এমনকি শহরের বাসা থেকে কর্মকর্তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা-নেওয়ার কাজেও ওই অ্যাম্বুলেন্স চালককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকালে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে শহরের দিকে যান চালক আরমান। পরে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা, কখনো ১০টার দিকে টিএসওকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে তিনি সরে যান। আবার দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে তাঁকে শহরের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়। পরে বিকেলে সকালে নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাটহাজারীতে ফেরেন তিনি।
কখনো সকালে টিএসওকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়ার পর দাপ্তরিক গাড়ি নিয়ে শহরে চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে জরুরি সময়ে কোনো রোগীকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হলে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স চালক যদি কর্মকর্তার দাপ্তরিক গাড়ি চালানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে একই সময়ে কোনো রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে স্বজনদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক আরমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করার কথা জানান। জরুরি প্রয়োজনে রোগীর কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স লাগলে অপেক্ষা করবে।
তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি এ ধরনের কাজ করেন না। তাঁকে কমপ্লেক্সের চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কর্মকর্তার দাপ্তরিক গাড়ি ব্যক্তিগত চালক দিয়ে চালানো হয়। তাঁর ভাষ্য, অ্যাম্বুলেন্স চালককে অবশ্যই অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্বকেই প্রাধান্য দিতে হবে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি বিধিমোতাবেক অ্যাম্বুলেন্স চালককে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক সার্বক্ষণিক জরুরি রোগী তথা রেফার করা রোগীকে বহন করবে। সরকারি বিধিমোতাবেক এটা কখনই করা যাবে না।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সিভিল সার্জন।
চাটগাঁ নিউজ/শোয়াইব/এমকেএন





