সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় হঠাৎ করেই পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত তিনদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে তাইফুল ইসলাম ইসবাত (৩ বছর ৮ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে কুমিরা ইউনিয়নের গুল আহমদস্থ দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. আরিফ হাসান ইলিয়াসের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশুটির বাবা নিজেই।
এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাজভাঙা কারখানা ব্যবসায়ী মো. সোহেলের তিন বছর বয়সী মেয়ে আরিজা বিনতে সোহেল পুকুরে ডুবে মারা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলছিল। কখন যে সবার অগোচরে পুকুরে পড়ে যায়, তা কেউ বুঝতে পারেনি। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে পুকুরে তার লাশ ভেসে ওঠে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন একটি কলোনিতে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো—মো. মাসুদের ৪ বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ এবং আব্দুল মালেকের ৯ বছর বয়সী মেয়ে সীমা আক্তার। তারা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অজান্তে পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, গত তিনদিনে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির আশপাশে জলাশয় থাকলে শিশুদের একা খেলতে না দেওয়া, পুকুর বা জলাশয় ঘিরে বেড়া দেওয়া এবং ৫-৬ বছর বয়স থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
চাটগাঁ নিউজ/দুলু/এমকেএন






