রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘর চাপা পড়ে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
পাহাড়ধসে একাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এবং তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলের দিকে উপজেলার ইছাখালী গুচ্ছগ্রামে প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ইছাখালী গুচ্ছগ্রামসংলগ্ন পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা রেনু আক্তার মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।
এদিকে একই উপজেলার আদর্শগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথক পাহাড়ধসে শহর বানু (৭০) নামে এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পাহাড়ধসের তাণ্ডব উপজেলার আরও কয়েকটি এলাকাতেও দেখা গেছে। বেতাগী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেমিরছড়া গুচ্ছগ্রামে পাহাড়ধসে মাসুদ ও কাশেমের মালিকানাধীন দুটি বসতঘর দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে বাসিন্দারা আগেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে পৌরসভার ভবানীমিল এলাকায় পাহাড়ধসে ইকবাল, জায়তুর নূর, মো. কোরবান, মো. ইয়াকুব ও লুৎফরন্নেছার মালিকানাধীন পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে একদিকে যেমন পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে, অন্যদিকে মরিয়মনগর-গাবতলী ডিসি সড়কে একটি গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ইসলামপুর ইউনিয়ন শাখার মানবিক টিমের সদস্যরা দ্রুত গাছটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করেন।
পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ। উপজেলার জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তারা উপস্থিত থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের সতর্ক করছেন।
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, পাহাড়ধসে প্রাণহানির এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছি।
এ ছাড়া গুজব বা অযথা আতঙ্কে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





