চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেছে এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা করেছে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। এটি আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ এত রাজস্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই আদায় করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান যেই প্রশাসন কর কাঠামো রয়েছে এর মধ্যে এটা সম্ভব না।
শুক্রবার (১২ জুন) জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, সর্বশেষ যেই বাজেট সেখানেও কিন্তু ৩ লাখের কিছুটা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে এক বছরের মাথায় সেটা দ্বিগুণ রাজস্ব তারা আদায় করতে পারবে- এটা আসলে সম্ভব নয়। ফলে সরকারের এই বাজেটটা আমরা মনে করতেছি এটা উচ্চাভিলাষী।
সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর মতো কোনো বাজেট হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপন হয়েছে এবং আমরা একটা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছি এবং বাজেটের পূর্বে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আমাদের পক্ষ থেকে একটা ছায়া বাজেটও উপস্থাপন করেছি। আমরা ভেবেছিলাম যে এটা সরকারকে সহায়তা করবে। আমাদের বাজেট যদি তারা দেখে এবং বিচার বিবেচনা করে, এখনো সুযোগ আছে।
তিনি আরও বলেন, আদ্-দীন হাসপাতালকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে বন্ধ করা হয়েছে। যদি সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে সেটার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে, জামায়াত বা ১১ দলকে এক ধরনের কোনঠাসা করার চেষ্টা করছে। সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপরে আঘাত আনছে। যেখানে আমাদের প্রতিষ্ঠান তৈরি করার কথা, বাংলাদেশে এমনই প্রতিষ্ঠান নাই, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন নাজুক খাতে পরিণত হয়েছে; যদি তিন কোটি আমানতকারীরা ইসলামী ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তখন অন্য ব্যাংকগুলোর ওপর প্রভাব পড়বে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়ারা ফ্যাসিবাদের পুষ্ট হয়ে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে আমাদের জায়গা থেকে সমালোচনাগুলো থাকবে। একই সাথে আমরা প্রস্তাবনাও দিচ্ছি। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা সেই কথাগুলো অব্যাহতভাবে বলে যাব। আমরা আশা করব, সরকার আমাদের কথাগুলো শুনবে। এবং দ্রুত জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার সরকারকে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সাংবাদিকদেন এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পরবর্তীতে আমরা আশা করেছিলাম অর্থনৈতিক সংস্কার আসবে, কিন্তু এই বাজেটের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে না। বাজেটে কিছু পণ্যের তারা কর কমিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিছু পণ্যের কর কমানো ইতিবাচক হলেও এগুলো আসলে বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদ্যুতের দাম যেভাবে বেড়েছে তা নজিরবিহীন। এত কম সময়ে এত বেশি পরিমাণ বিদ্যুতের দাম আগে বাড়েনি।
তিনি বলেন, বড় বাজেট মানে সেটাকে বড় দুর্নীতি করারও সুযোগ থাকে। বিভিন্ন কার্ড বা খাল খনন কর্মসূচিতে সরকারি দলীয় এমপিরা বরাদ্দ পেলেও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নেই। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ঋণ খেলাপিদের টাকা ফেরত নিবে, আওয়ামী আমলের লুটেরা ও পাচারকৃত টাকা কিভাবে আদায় করবে, বিচার কিভাবে নিশ্চিত করবে, এসব বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
আমরা এই বাজেটে এবং পুরো অর্থনীতিতে তিনটি মৌলিক সমস্যা মনে করছি: ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি এবং তরুণদের কর্মসংস্থান। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বিদেশি এবং দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যাংকিং খাতের লুটপাট এবং নাজুক অবস্থা থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যাবে তা বাজেটে অনুপস্থিত রয়েছে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তারা নিষিদ্ধ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারের মাধ্যমে দলগতভাবে তাদের বিচার করা হবে। সংসদে এটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় এবং মিডিয়াতে তাদের উস্কানিমূলক প্রচারণার চেষ্টা চলছে, সেটাও এক ধরনের আইন লঙ্ঘন। ফলে সেটা সরকার এবং প্রশাসন দেখবে এমনটা মনে করি।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





