আনোয়ার হোসেন ফরিদ: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে জনজীবন, অবকাঠামো, কৃষি এবং মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। উপজেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ২৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক সংস্কারে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ১২টি সেতু ও ৪৫টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর প্রাথমিক মেরামতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কৃষিপ্রধান এ উপজেলায় বন্যার পানিতে ৬১০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে ফসলের প্রায় ৭ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ৮৯ হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত ৫৩৩টি পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৯৪ মেট্রিক টন মাছ এবং ৮ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে। এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ২২০টি বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশুপালন খাতেও দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। ১৫টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১২ হাজার মুরগি এবং বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে। এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ চলাকালে সাপে কাটার ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং তাদের সরকারি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন






