প্রকাশিত হয়েছে বিসিবি নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার বা কাউন্সিলর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল পাঁচটায় পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, এই তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় থাকা ১৮৪ জন কাউন্সিলরের সবাই-ই কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এর অর্থ হলো, খসড়া তালিকার বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা আপত্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা থেকে কেউ বাদ পড়েননি। এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়ে গেল যে বিসিবির আসন্ন বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে মোট ১৮৪ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই ভোটার তালিকা বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে চূড়ান্ত কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ৬৬ জন। ক্যাটাগরি-২ তথা ঢাকার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে চূড়ান্ত কাউন্সিলর মনোনয়ন পেয়েছেন ৭৬ জন। এ ছাড়া ক্যাটাগরি-৩ অর্থাৎ বিশেষায়িত সংস্থা এবং সাবেক ক্রিকেটার ক্যাটাগরি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ৪২ জনকে।

এবারের নির্বাচনে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলর মনোনয়ন পাওয়ার কথা থাকলেও দেশের কয়েকটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বিশেষ সংস্থা থেকে সময়মতো কাউন্সিলরশিপের নাম জমা না দেওয়ায় ভোটারের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম এবং নীলফামারী জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কোনো নাম জমা দেওয়া হয়নি। একই সাথে বিশেষ সংস্থার কোটায় থাকা কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি থেকেও কোনো কাউন্সিলরশিপ জমা পড়েনি।

বিসিবির এবারের ভোটার তালিকায় সাবেক খেলোয়াড় ও তারকা ক্রিকেটারদের একটি বড় অংশ কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সাবেক অধিনায়ক কোটা থেকে এবার বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর হয়েছেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, শফিকুল হক, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার এবং শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।

এ ছাড়া বর্তমান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবার সম্পূর্ণ নতুন মুখ হিসেবে বিসিবির কাউন্সিলর হয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্সিলরশিপ পাওয়াদের তালিকায় আরও আছেন নাজিম উদ্দিন, তালহা জুবায়ের, নাঈম ইসলাম, সৈয়দ রাসেল, নাজমুল হোসেন, ডলার মাহমুদ এবং শামসুর রহমান। এই তালিকায় আরও আছেন বিসিবি অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালের ভাই নাফিস ইকবাল। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিজে ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্য দিকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো থেকে বেশ কয়েকজন পরিচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম এবার বিসিবির ভোটার তালিকায় জায়গা পায়নি, যা দেশের ক্রিকেট মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফারুক আহমেদ, ইফতেখার রহমান মিঠু, মাহবুব আনাম, ইসতিয়াক সাদেক এবং লোকমান হোসেন। তবে ক্লাব কোটায় কাউন্সিলরশিপ পাওয়া উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে রয়েছেন আবাহনী থেকে ফাহিম সিনহা, মোহামেডান থেকে মাসুদুজ্জামান, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ থেকে লুৎফর রহমান বাদল, প্রাইম ব্যাংক থেকে তানজিল চৌধুরী, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স থেকে তাসবির উল ইসলাম, ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে ইসরাক হোসেন, পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব থেকে আজিজ আল কায়সার এবং সিটি ক্লাব থেকে মইনুল হক মইন। এর বাইরে উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব থেকে ফায়াজুর রহমান মিতু, ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে ইয়াসির ফয়সাল আশিক, কাকরাইল বয়েজ ক্লাব থেকে সালাউদ্দিন চৌধুরী, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স থেকে আমজাদ হোসেন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, এক্সিউম ক্রিকেটার্স থেকে ইসরাফিল খসরু, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র থেকে রফিকুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব থেকে শানিয়ান তানিম, ফায়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব থেকে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং প্রগতি সেবা সংঘ থেকে সাব্বির আহমেদ কাউন্সিলর হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটাতেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ ভোটার হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহাদাত হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেবব্রত পাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিরাজউদ্দিন আলমগীর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহিদ হোসেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কোটায় মনোনীত হয়েছেন কবির খান, রুহুল আমিন, সরফরাজ আহমেদ, সালাউদ্দিন হায়দার এবং জাহিদ পারভেজ চৌধুরী। জেলা ও বিভাগ কোটা থেকে ভোটার হওয়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে সাইদ বিন জামান, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে শহিদুর রহমান, রাজশাহী বিভাগ থেকে আমিনুল হক দেওয়ান, রংপুর বিভাগ থেকে শামসুজ্জামান সামু, খুলনা বিভাগ থেকে শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগ থেকে মিজানুর রহমান এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাইয়ুম চৌধুরী।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সাথে সাথে নির্বাচনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সূচিও ঘোষণা করেছে কমিশন। সেই অনুযায়ী আগামী ২০ ও ২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। এরপর ২১ ও ২২ মে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ পাবেন।

২৩ মে নির্বাচন কমিশন দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। এর পরের দিন ২৪ মে বাছাইকৃত মনোনয়ন তালিকার ওপর যেকোনো ধরনের আপত্তি গ্রহণ এবং সেই সংক্রান্ত বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মে সকাল দশটা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা এবং সেদিনই দুপুর দুইটায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের মূল ভোট গ্রহণের বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, ২৫ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালট বা ই-ব্যালটের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। এই ব্যালট পাঠানোর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৭ জুন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের বোর্ড রুমে বিসিবির পরিচালক, সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদের মূল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোট গ্রহণ শেষেই একই দিনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

প্রতিবারের মতো এবারও ৩টি ক্যাটাগরি থেকে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ তথা জেলা ও বিভাগ ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন, ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঢাকা ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন এবং ক্যাটাগরি-৩ তথা সাবেক ক্রিকেটার কোটা থেকে ১ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top