চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে নিলামযোগ্য পচনশীল পণ্য ই-নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত, স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও আইনানুগভাবে এসব পণ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। কাস্টমস হাউসের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মুহা. মাহবুবুর রহমানের সই করা আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে বলা হয়েছে, নিলাম কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, পণ্যজট নিরসন, বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
আদেশে আরও বলা হয়, কাস্টমস আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে জীবজন্তু ও পচনশীল পণ্য যেকোনো সময় বিক্রয়ের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া, এনবিআরের নিলাম সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশেও ই-নিলামের মাধ্যমে পচনশীল পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীন নিলামযোগ্য যেসব পণ্যচালানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান কিংবা কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশগত বাধা নেই, সেগুলো ই-নিলাম পদ্ধতিতে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। ই-নিলামে তোলার আগে পণ্যচালানের আইনগত অবস্থা, পণ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ, ইনভেন্টরি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ করতে হবে।
তবে কোনো পণ্য চালানের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিক্রয় কিংবা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটি ই-নিলামে তোলা যাবে না। অন্যদিকে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারাধীন বা ন্যায় নির্ণয়াধীন পচনশীল পণ্য দ্রুত বিক্রয়ের সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধান অনুসরণ করে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, পণ্য চালানের লট ও ক্যাটালগ প্রস্তুত করে ই-নিলামের জন্য বিডারদের পরিদর্শন, অংশগ্রহণ, জামানত, বিডিং এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পচনশীল পণ্যের দ্রুত অবনতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের নিলাম কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং অযথা বিলম্ব ছাড়াই সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
ই-নিলামে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দর পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক অনুমোদন নিতে হবে। নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতাকে নিলাম মূল্য, শুল্ক-করাদি, সরকারি পাওনা ও অন্যান্য আইনগত দায় পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় দলিল দাখিলের পর পণ্য খালাস বা অপসারণের সুযোগ দেওয়া হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত বিডার অর্থ পরিশোধ বা অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে, বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে কিংবা নিলাম বাতিল হলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী আদেশ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া, কোনো পচনশীল পণ্য নিলামের উপযোগী না হলে অথবা আমদানি নীতি, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার বিধান, আদালতের আদেশ কিংবা অন্য কোনো আইনগত কারণে ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রি সম্ভব না হলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী ধ্বংস বা অন্য কোনো আইনানুগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ৯৪-এর সঙ্গে পঠিতব্য ধারা ২০৭ ও ২৬৬-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব কাস্টমস নাজমুল হোসেন বলেন, পচনশীল পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন ও বিধি মেনে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ই-নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা থাকলে এসব পণ্য ই-নিলামে তোলা হবে না।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






