চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে গলাকাটা মোবারক ধরা দেওয়ার আগে পুলিশকে ‘কসম’ করিয়েছিল। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বারবার পুলিশকে কসম করতে বলেছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশও ‘খোদার কসম’ বলে তাকে নিশ্চয়তা দিলে সে ঘরের ফলস ছাদ থেকে নেমে আসে।
এর আগে তার হাতে থাকা অস্ত্রটি ঘরের একজন বয়স্ক ব্যক্তির কাছে বুঝিয়ে দেয়। পরে সেই ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশ অস্ত্রটি জব্দ করে।
অভিযানের সময় মোবারকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কথোপকথনের একটি ভিডিও থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ভিডিওটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য মোবারকের উদ্দেশে বলছেন, ‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। আমরা খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।’ জবাবে মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য আবার বলেন, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। তোকে আমরা বাঁচানোর জন্য আসছি। তুই অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার এখান থেকে আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’
এরপরও মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন পুলিশকে সরে যেতে বলেন।
জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, যাব না। মোবারক, অস্ত্রটা দে। অস্ত্রটা ফেল। নিচে নাম, আগে নিচে নাম।’ একপর্যায়ে মোবারক বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ পুলিশ সদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরুব্বির (ঘরে থাকা বৃদ্ধ) কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। মুরুব্বির কাছে অস্ত্রটা দে।’ পুলিশ সদস্যদের একজন তখন বলেন, ‘আমাদের কাছে কিন্তু চায়না রাইফেল, এসএমজি—সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেফতার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’
জবাবে মোবারক বলেন, ‘স্যার, আমি একটু পরে বলব স্যার। একটা অনুরোধ…আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ তখন এক পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। কিছু করব না। অস্ত্র ফেলে দে। খোদার কসম, কিছু করব না আমরা। তোর কিচ্ছু হবে না।’ জবাবে মোবারককে বলতে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য ঘরে থাকা বৃদ্ধকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুরুব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন। মুরুব্বি, অস্ত্র নিয়ে নেন।’
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় সন্ত্রাসী মোবারককে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মোবারকের সঙ্গে তার তিন সহযোগী মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নছির গ্রেফতার হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মোবারক বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। সে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী, সরোয়ার বাবলাসহ বেশ কয়েকটি খুনের সঙ্গে জড়িত। মোবারক গত ২৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





