চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত দিবসে তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে সই এবং পরবর্তী সময়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও তা শক্তিশালী করতে সংশোধন এনেছে। তামাক ও নিকোটিন ব্যবহার যে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষায় সব ধরনের প্রচার ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনো মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি এবং ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইনের ধারা ও জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে, যার একটি বড় কারণ তামাকের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতিসহ দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বাণীতে তিনি বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





