চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ৮ স্কুলে পাস করেনি একজনও

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ‘জিরো পারসেন্টেজ স্কুল’ তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম এলাকার।

এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে কয়েকটি বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও একজনও পাস করতে পারেনি। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র তিনজন। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

রাঙামাটির বরকল উপজেলার আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুল থেকে পরীক্ষা দেয় ১০ জন। লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

এ ছাড়া সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ১০ জন, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭ জন এবং দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়নি।

অন্যদিকে, দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে পাঁচজন করে পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানেও পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল জারুলছড়িতে

শূন্য পাসের আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুলে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হয়নি।

এরপর খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুলে ১৭ জন এবং রাঙামাটির মোহালছড়ি হাইস্কুলে ১৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও এসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি ফলাফল বিশ্লেষণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করা ঠিক নয়। এর পেছনে শিক্ষক সংকট, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, ঝরে পড়া, পরিবারের আর্থিক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষা প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে পার্বত্য ও দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।

কারণ খতিয়ে দেখবে বোর্ড

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলেও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার আগের তুলনায় কমেছে। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান ও কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে, তা চিহ্নিত করা হবে।

তিনি বলেন, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় একাডেমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ফলাফলের উন্নতির জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে তদারকি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top