চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীতে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে ১৯টি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ৷
এসময় একটি ভেজাল মশলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের এবং একজন আসামি গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর চকবাজার বালি অর্কেট, লালখান বাজার, চাক্তাই খাতুনগঞ্জে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত চট্টগ্রাম মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।
এই ব্যাপারে মেট্রোপলিটনের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, অভিযানে ভেজাল, পচা-বাসি সংরক্ষণ, উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে ১৯টি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসময় বিভিন্ন অপরাধের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে লালখান বাজার হাইওয়ে সুইটস এণ্ড বেকারিতে পূর্বের পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটলেও কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এখানে মানহীন ঘি ব্যবহারপূর্বক মিষ্টি প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যতিত টোস্ট বিস্কুট বিক্রয়, স্যাঁতসেঁতে ফ্লোর, ছানা প্রক্রিয়াকরণের পাত্র অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন, কিছু অংশে তেলাপোকার বিচরণ দেখতে পাওয়া যায়। এসব অপরাধের কারনে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে নগরীর চাক্তাই খাতুনগঞ্জে জসিম মশলা মিলে কাঠের গুড়ো মিশ্রণপূর্বক মশলা প্রস্তুত, মশলা প্রস্তুতে অননুমোদিত রংয়ের ব্যবহার, নোংরা,পচা মরিচ ব্যবহারপূর্বক মশলা প্রস্তুত, সরকারি কাজে সহযোগিতা না করায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের এবং একজন আসামি গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে চকবাজারবালি আর্কেটে চট্টগ্রামের ফুড কোর্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁ আইনে কেএফসিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷ এই প্রতিষ্ঠানে পচা আলু ও পচা মজেস ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ফুচকা খাদক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পচা আলু, পচা আম ব্যবহারপূর্বক খাদ্য প্রস্তুত করায় ৩০ হাজার টাকা, street Eats নামে একটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পুড়া তেল, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন, খামিতে ময়লা, রান্না ও কাচা খাবার একত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গ্রীল মাস্টার এণ্ড পাপাচিনো নামে একটি খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানে পচা গাজর, মেয়াদহীন চাইনিজ সবজি, অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বক্সে গরম খাবার সংরক্ষণ, পচা পেয়াজ, নিন্মমানের সস ব্যবহার, খোলা অবস্থায় মাশরুম ও ব্ল্যাক অলিভ সংরক্ষণের কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে লাজজাত নামক একটি খাবার প্রতিষ্ঠানে মেয়াদহীন মুরগি সংরক্ষণ, মেয়াদহীন ব্রেডক্রাম্প সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং মিশ্রিত মরিচ, কাঁচা মাংসের সাথে ফ্রিজারে আইস তৈরি , নিন্মমানের সসের ব্যবহার, নষ্ট বাদাম রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দিল্লি দরবার এণ্ড সালাদ লাভার্স নাম একটি খাবার প্রতিষ্ঠানে ময়লা পাত্রে রান্না, কাঁচা ও রান্না করা মাংস একত্রে সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় রান্না করা খাবার সংরক্ষণ , অননুমোদিত রং মিশ্রিত মরিচ, বিষ্ঠাসহ মরিচ সংরক্ষণ , পচা আলু সিদ্ধ , মেয়াদহীন ফল ,দই, আম ফ্রিজে সংরক্ষণ , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণের কারনে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷
চিলিস নাম একটি খাবার প্রতিষ্ঠানে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণ , চুলা চুইয়ে ময়লা খাবারে পড়া, রক্তমাখা অপরিষ্কার – অপরিচ্ছন্ন মুরগি ফ্রিজে সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারনে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এলিগ্যান্ট বামের একটা খাবার প্রতিষ্ঠানে পচা গন্ধযুক্ত মাংস, পচা মাংস, পচা মাশরুম , পচা চাইনিজ সবজি ব্যবহারপূর্বক খাদ্য প্রস্তুত করার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দ্যা বোন চাইনা প্রতিষ্ঠানে মেয়াদহীন রক্তমাখা মুরগির হাড়মাংস সংরক্ষণপর দায়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওয়াফেল কিং নামে একটা প্রতিষ্ঠানে মেয়াদহীন রক্তমাখা মুরগির হাড়মাংস সংরক্ষণ, পচা লেমন গ্রাস ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
9 candle 2.0 নামে খাবার প্রতিষ্ঠানে মেয়াদহীন রক্তমাখা মুরগির হাড়মাংস সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশনের দায়ে ২৫ হাজার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হটডগ এণ্ড কোং নামে খাবার প্রতিষ্ঠানে পাংগাস মাছকে ডরি ফিশ বলে বিক্রয়, রক্তমাখা হাড়মাংস সংরক্ষণ, মেয়াদহীন খামি সংরক্ষণের দায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷
দ্যা ওয়াফেল নামে খাবার প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদহীন ডুডু, মাংসের সাথে আইস তৈরি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। টমিয়াম নামে খাবার প্রতিষ্ঠানকে রান্না করা অতিরিক্ত টক মিশ্রিত স্যূপ ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দ্যা চিকেন বক্স নামে খাবার প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদহীন নাজুসপাতি, মেয়াদহীন রক্তমাখা হাড়মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ফুচকাওয়ালা এণ্ড জুসবার নামে খাবার প্রতিষ্ঠানকে পচা গাজর, মেয়াদহীন মিষ্টি ও টক দই সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ্যা মাঞ্চগাই নামে খাবার প্রতিষ্ঠানকে পচা মাংস, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একত্রে সংরক্ষণের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং এসআরবি-৭; সিএমপি চট্টগ্রাম, ব্যাটালিয়ন আনসার চট্টগ্রামের একটি টিম সমন্বয় করেন। জনস্বার্থে এজাতীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মেট্রোপলিটনের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





