চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার ১ম দিনেই অনুপস্থিত ১ হাজার ৩৯০ পরীক্ষার্থী!

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: সারাদেশের সঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৩৯০ পরীক্ষার্থী। এদিন ১১৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। এ ধাপের পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। পরে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দৈনিক পরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ডের অধীনে মোট ৭৩ হাজার ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৭২ হাজার ৫২৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৩৯০ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৯১৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলায়। কক্সবাজারে ২০৯ জন, রাঙ্গামাটিতে ৮৫ জন, বান্দরবানে ৭৫ জন এবং খাগড়াছড়িতে ৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো জেলায় বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রগুলোতে কোনো বহিঃস্থ পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়নি এবং সব কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা ‘ভালো’ বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হন। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অভিভাবকদের। পরীক্ষা সূচি অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি রাখা হয়নি।

৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ব্যবহারিক বিষয়সমূহে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল অংশ ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে সম্পন্ন হবে।

পরীক্ষা পরিচালনার নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ১০টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ করা হয়। এরপর সকাল ১০টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ওএমআর শিট সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। একই নিয়মে দুপুরের পরীক্ষাগুলোও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার মোট ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী এবার অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২৩ হাজার ৯০৩ জন, মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ২৩৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩১ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ৬৮টি কেন্দ্র, যার ২৬টি মহানগর এলাকায়। এছাড়া কক্সবাজারে ১৮টি, বান্দরবানে ৮টি এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১০টি করে পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রতিরোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে ২৩টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি সাধারণ এবং ৮টি বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন/জেএইচ

Scroll to Top