গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: শিল্পে আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে দুই মন্ত্রীকে চেম্বারের চিঠি

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানাগুলোকে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা দেওয়ার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে পৃথক চিঠি দিয়েছেন চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুই মন্ত্রীকে এসব চিঠি দেওয়া হয় বলে চেম্বার সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাহীন বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অলিখিত লে-অফে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও বিঘ্নের কারণে দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রিও মারাত্মকভাবে কমে গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে শিল্পোদ্যোক্তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ তোলার পাশাপাশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিল ও দৈনন্দিন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও এ পরিস্থিতির প্রভাব শিল্পোদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চেম্বার সভাপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিক্রি ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পরও যদি তাদের উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণের বোঝা বহন করতে হয়, তাহলে তা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে।

এটি সরকারের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের অবকাশ চায় চেম্বার

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে দেওয়া চিঠিতে শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে বর্তমানে কোনো শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং বিল পরিশোধে ৯০ দিনের অবকাশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চিটাগং চেম্বার।

চিঠিতে মাসিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধের বর্তমান নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্বকাল (Moratorium) অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চেম্বার সভাপতি চিঠির শুরুতে সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকারের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণে সক্ষম হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা অলিখিত লে-অফে যেতে বাধ্য হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে সৃষ্ট এই অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে বর্তমানে কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের বিলম্বকাল (Moratorium) অনুমোদন করা হলে তা শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।

চিটাগং চেম্বারের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং শিল্পকারখানার আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top